Academy

জনাব আবদুর রহমান ঢাকার একটি কলেজের ইসলাম শিক্ষার শিক্ষক। তিনি ক্লাসে ইসলামি শিক্ষা ও সংস্কৃতি পড়াতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের ইসলাম শিক্ষার উদ্দেশ্য বর্ণনা করতে বলেন। শিক্ষার্থীরা 'ক' ও 'খ' নামে দুইটি দলে বিভক্ত হয়ে পর্যায়ক্রমে ইসলাম শিক্ষার বিভিন্ন উদ্দেশ্য উপস্থাপন করে-

ক. দল

খ. দল

১. আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞানলাভ

১. আল্লাহর খিলাফত পরিচালনার যোগ্যতা অর্জন

২. আল্লাহর ওপর ইমান আনা

২. আল্লাহর দীন প্রতিষ্ঠা করা

৩. আল্লাহর ইবাদত করা

৩. দাওয়াত ও তাবলিগ

৪. আল্লাহ ও রাসুল (স) এর আনুগত্য করা

৪. পার্থিব কল্যাণ লাভ

৫. আল্লাহর সাথে সুসম্পর্ক স্থাপন।

৫. হালাল উপার্জন।

Created: 1 year ago | Updated: 5 months ago
Updated: 5 months ago
Ans :

কযে শিক্ষাব্যবস্থায় ইসলামকে একটি পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা হিসেবে শিক্ষা দেওয়া হয় তাকে ইসলাম শিক্ষা বলে। বলে

1 year ago

ইসলাম শিক্ষা

**'Provide valuable content and get rewarded! 🏆✨**
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Content

Related Question

View More

ইসলাম শিক্ষা আল্লাহর একত্ববাদের ওপর প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় একে তাওহিদভিত্তিক শিক্ষা বলা হয়।

'তাওহিদ' শব্দের অর্থ একত্ববাদ। ইসলাম শিক্ষার মূলকথা হলো- لا اله الا الله অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আল্লাহ তায়ালাকে সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা, রিজিকদাতা এবং ইবাদত ও আনুগত্যের যোগ্য এক ও অদ্বিতীয় সত্তা হিসেবে মুখে স্বীকার ও অন্তরে বিশ্বাস করার নাম তাওহিদ। পৃথিবীতে যত নবি- রাসুল এসেছেন তাদের প্রত্যেকেই এই তাওহিদের দাওয়াত দিয়েছেন। তাওহিদে বিশ্বাস ছাড়া কোনো ব্যক্তিই মুমিন বা মুসলমান হতে পারে না। এজন্যই ইসলাম শিক্ষা তাওহিদের ওপর প্রতিষ্ঠিত।

 ছকে 'ক' দলের আলোচিত বিষয়গুলো ইসলাম শিক্ষার ধর্মীয় বা আধ্যাত্মিক উদ্দেশ্যকে বোঝায়।

ইসলাম শিক্ষায় ইসলামকে একটি পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা হিসেবে শিক্ষা দেওয়া হয়। এ শিক্ষার সাধারণত দুই ধরনের উদ্দেশ্য রয়েছে। যথা- ধর্মীয় ও সামাজিক। ধর্মীয় উদ্দেশ্যগুলো হলো- আল্লাহ তায়ালা সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানলাভ করা, তাঁর ওপর ইমান আনা এবং ইবাদতের পদ্ধতি ও গুরুত্ব সম্পর্কে জানা। যথাযথভাবে আল্লাহর ইবাদত করা এবং দৈনন্দিন জীবনযাপনের ক্ষেত্রে ইসলামের বিধিবিধান মেনে চলার মাধ্যমে আল্লাহর সাথে বান্দার সুসম্পর্ক গড়ে উঠে। ছকে 'ক' 'দলের শিক্ষার্থীদের আলোচনায় এ বিষয়গুলোই ফুটে উঠেছে।

ইসলাম শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো ইসলামকে সঠিকভাবে জানা এবং বাস্তব জীবনে তা মেনে চলার মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা। আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়। তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন। তিনি সৃষ্টিকর্তা, রিজিকদাতা, আইন প্রণেতা এবং সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী একমাত্র সত্তা। তিনি অনাদি এবং অনন্ত। আল্লাহ তায়ালা সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানলাভ এবং তার পূর্ণ আনুগত্যের শিক্ষা দেওয়াও ইসলাম শিক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের 'ক' দলের আলোচিত বিষয়গুলোর মাধ্যমে ইসলাম শিক্ষার ধর্মীয় উদ্দেশ্যগুলোই বোঝানো হয়েছে।

'খ' দলের আলোচনায় ইসলাম শিক্ষার দু'ধরনের উদ্দেশ্যের মধ্যকার সামাজিক উদ্দেশ্যের প্রতিফলন ঘটেছে। আল্লাহ তায়ালা মানুষকে তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। আর আল্লাহর প্রতিনিধি হিসেবে পৃথিবীতে মানুষের বিশেষ কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। ইসলাম শিক্ষার মাধ্যমে মানুষ সেসব দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানলাভ করতে পারে। যা ছকের 'খ' দলের আলোচনায় ফুটে উঠেছে।

ইসলাম শিক্ষার উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর দীন ইসলামকে প্রতিষ্ঠিত করা। তাছাড়া এ শিক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো- মানুষকে ইসলামের দাওয়াত দেওয়া, ভালো কাজের আদেশ দেওয়া এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখা। সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ করা মুসলমানদের পবিত্র দায়িত্ব। এ সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, 'তোমরা উত্তম জাতি। মানুষের কল্যাণের জন্যই তোমাদের সৃষ্টি করা হয়েছে। তোমরা সৎকাজের আদেশ দেবে ও মন্দকাজে নিষেধ করবে' (সুরা আলে ইমরান: ১১০)। ইসলাম শিক্ষার অন্যতম সামাজিক উদ্দেশ্য হলো হালাল-হারাম সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানার্জন করা। এর ফলে ব্যক্তি হালাল উপার্জন করতে উৎসাহিত হবে এবং হারাম উপার্জন থেকে বিরত থাকবে। কেননা হালাল উপার্জন, ইবাদত কবুল হওয়ার প্রধান শর্ত। ইসলামের শিক্ষা সঠিকভাবে মেনে চলার মাধ্যমে পরকালীন মুক্তির পাশাপাশি দুনিয়ার জীবনেও কল্যাণ লাভ করা যায়।

উদ্দীপকের 'খ' দলের শিক্ষার্থীদের আলোচনায় উপরের বিষয়গুলোই ফুটে উঠেছে। তাই বলা যায়, তাদের আলোচনায় ইসলাম শিক্ষার সামাজিক উদ্দেশ্যের প্রতিফলন ঘটেছে।

4 ইসলামি সংস্কৃতির উৎস কী? (জ্ঞানমূলক)

Created: 1 year ago | Updated: 5 months ago
Updated: 5 months ago

ইসলামি সংস্কৃতির উৎস হলো- কুরআন, হাদিস, ইজমা ও কিয়াস।

দুনিয়ার কল্যাণ ও আখিরাতের মুক্তির জন্য ইসলামে জ্ঞানার্জনের গুরুত্ব অপরিসীম।

ইসলামে জ্ঞানার্জনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রকৃত মানুষ ও পূর্ণাঙ্গ মুসলিম হওয়ার জন্য জ্ঞানার্জনের বিকল্প নেই। আল-কুরআনের বহু আয়াতে এবং রাসুলুল্লাহ (স)-এর বিভিন্ন হাদিসে জ্ঞানার্জনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইসলামের মৌলিক জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য ফরজ। সৃষ্টির শুরুতে ফেরেশতাদের ওপর মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠার মূলেও ছিল জ্ঞান। ইসলামের সঠিক জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে ব্যক্তি নিজেকে পাপমুক্ত করে জান্নাতের উপযুক্ত করে গড়ে তোলে।

উদ্দীপকে মক্তবের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।

'মক্তব' শব্দের অর্থ- লেখার স্থান, বিদ্যালয় বা শিক্ষাকেন্দ্র। এটি ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো সম্পর্কে প্রাথমিক জ্ঞানার্জনের একটি আদর্শ স্থান। সাধারণত মসজিদের বারান্দায় বা মাদ্রাসার সাথে এটি গড়ে তোলা হয়। এখানে মুসলিম শিশুদেরকে কুরআন তেলাওয়াত, হাদিস, ওজু, গোসল, নামাজ, রোজা, শিষ্টাচার ইত্যাদি সম্পর্কে প্রাথমিক জ্ঞানদান করা হয়। এটির সাথে উদ্দীপকের হাবিবুর রহমান সাহেবের প্রতিষ্ঠানের মিল রয়েছে।

উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়েছে, হাবিবুর রহমান সাহেব প্রতিদিন সকালবেলা মসজিদের বারান্দায় মুসলিম শিশুদেরকে ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো শিক্ষা দেন। তিনি তাদেরকে শুদ্ধভাবে কুরআন তিলাওয়াত, হাদিস, নামাজের নিয়মকানুন, বিভিন্ন দোয়া- মোনাজাত ও আদব-কায়দা শেখান। এখানে স্পষ্টতই মক্তবের কথা বলা হয়েছে। মক্তব মুসলিম শিশুদের এক ধরনের প্রাথমিক বিদ্যালয়। এখান থেকে তারা ইসলাম ধর্ম ও ইসলামি সংস্কৃতির মৌলিক কিছু বিষয় এবং নৈতিকতা ও সামাজিক শিষ্টাচারের প্রাথমিক শিক্ষা পায়। এ শিক্ষা তাদের বড় হয়ে ভালো মানুষ ও সুনাগরিক হওয়ার প্রেরণা দেয়। শিশুদের আল্লাহর ইবাদতে অভ্যস্ত হওয়ার প্রয়োজনীয় শিক্ষা মক্তবেই দেওয়া হয়। সুতরাং বলা যায়, হাবিবুর রহমান সাহেব পরিচালিত মুসলিম শিশুদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বলতে মক্তবকেই বোঝানো হয়েছে।

Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...